জীবনের হাসি কান্না ৫০

আজ দৈনিক পত্রিকাতে একটা লিষ্ট দেখে বিচি খুলে পড়ে যাবার দশা আমার, যদিও ডাক্তারগন, সাংবাদিক, পুলিশ, আর্মি, সরকারী অনেক চাকুরী জীবি ও সাধারন মানুষ ইত্যাদি পেশার লোকজন এই লিষ্ট থেকে বাদ পড়ছেন বলে জানছি! এমন ছবি দেয়া লিষ্ট আরো আসবে সামনে হয়ত! আমি অনেকদিন ধরে চিন্তা করছিলাম, কেহ কি এই মৃত্যু গুলোর লিষ্ট রাখছে কি না! যাই হোক, সরকারের হিসাবের মধ্যে যে এই নাম গুলো আছে তাতেই বা কম কি! প্রথম আলোকে ধন্যবাদ জানাই! সারা দেশে এমনি করোনা উপসর্গ নিয়ে মরা ব্যাক্তিদের অন্তত একটা লিষ্ট হয়ে যাওয়া দরকার! কেহ নিশ্চয় এগিয়ে আসবেন, অন্তত মোবাইলে একটা এপস হয়ে যাক, স্বজনেরা নিজ টাকা খরচ করে আপডেট দিবে, নাম ঠিকানা মোবাইল দিবে, যাচাই বাঁচাই হবে, তবুও হয়ে যাক! 

করোনায় মৃত শিষ্ট ব্যাক্তিদের ছবি

এই মানুষদের অসময়ে চলে যাওয়া বলে মনে হচ্ছে। যদিও ধর্ম্মতে কিছু বলার নাই, বিধাতার খেলা বিধাতা খেলেন কিন্তু বাস্তবে মুলত অনেক কথা বলার থাকে।  এই মানুষের অনেকের কিবা বয়স।  ৫০/৬০ বয়সে মানুষের চলে যাওয়া আমি মেনে নিতে পারি না।  একটা মানুষ নানান অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজকে তৈরী করে যখন উপভোগ করার সময়ে আসে ঠিক তখুনি চলে যাওয়া চলে না, এই ক্ষত বুঝে তার পরিবার, যদিও সারা দুনিয়ার তাতে কিছু যায় আসে না! এই প্রান গুলো তার পরিবারের জন্য কেমন ছিল বা তার অনুপস্থিতিতে তারা কেমন চলবে তা আমরা হয়ত ভেবে দেখবো না কিন্তু এটা মুলত ভাবার বিষয়! এই মৃত মানুষের পরিবার গুলো আজীবন এইক্ষত বয়ে বেড়াবে! 

করোনা ভাইরাস নিয়ে মুলত তেমন কিছু চলে না, এ যাবত আমি আমার কাছে দুইজনকে হারিয়েছি।  আমাদের অফিসের একজন যিনি করোনা ভাইরাস বিশ্বাস করতেন না, করোনার কথা উঠলে বলতেন কিসের করোনা ফরোনা! পাঁচ ওয়াক্র এই নামাজি বান্ধা চোখের সামনে নাই হয়ে গেলেন।  পরে একজন বন্ধু করোনার সিমটম নিয়ে চোখের পলকে নাই হয়ে গেল, যা এখনো বিশ্বাস করতে পারি না! আজ অনেক দিন হইয়ে গেল এখনো বিশ্বাস হয় না যে আমার প্রিয় এই বন্ধুটা নেই! আফসোস করি, ভাবি, কত স্মৃতি চোখের সামনে এসে পড়ে! কি করে ভোলা যায়, আজ অনেক দিন হয়ে গেল এই বন্ধুর পরিবারের কোন খোঁজ নিতে পারি নাই, লজ্জায়, তার স্ত্রী সন্তানকে কি বলবো! কি সান্তনা দিলে তারা মেনে নিবে! 

যাই হোক, এই করোনা নিয়ে সভ্য (সার্বিক বিচারে) রাষ্ট্র গুলো বা যাদের সভ্য শাসক (বুঝদার বিবেকবান) ছিলো তারা মোটামুটি পার পাচ্ছে বা আক্রান্তের হার কমিয়ে আনছে, যদিও তাদের অনেক জোরালো এবং বুদ্ধিমাত্রার ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।  নিউজিল্যান্ড, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া সহ অনেক দেশ বলা চলে একদম নিজদের মুক্ত করে নিয়েছে (খবরে দেখলাম), পরে আরো কিছু দেশ এখন আক্রান্তের হার কমিয়ে নিয়ে এসেছে, যথাযত ব্যবস্থা নিয়ে মানুষ রক্ষা করেছে।  আবার কিছু দেশ কিরে কোন লকডাউন না দিয়েও বহাল আছে তা ভেবে দেখি।  বিশেষ করে থাইল্যান্ড নিয়ে অনেক চিন্তা করি কারন এই রাষ্ট্র এবং ভিতরের ব্যবস্থা আমি নিজের চোখে দেখেছি, এরা নাকি লকডাউন না করে এখনও মুক্ত এবং কোন নুতন কেইস ধরা পড়ছে না! এত এত পর্যটক আ এত খোলামেলা ব্যবস্থাতেও মানুষ রক্ষা পেয়ে গেল! অসাধারন! এদিকে সিঙ্গাপুরের প্রশংসা না করলেই নয়, তারা বিদেশী শ্রমিক তথা বাংলাদেশীদের অনেক হেল্প করছে, এটা একটা ভাল প্রশাসনিক রাষ্ট্রের ভাল কাজ! নিজদের জনগণকে রক্ষা করে বিদেশী জনগণের প্রতি এই দরদ মানবতার ইতিহাসে লেখা হয়ে থাকবে! 

আমাদের কথা চিন্তা করলে মাথা ঘুরে পড়ে, অথচ আমাদের শুরু থেকে যদি কঠোর প্রচেষ্টা এবং গাঠনিক চিন্তা ভাবনা থাকত তবে আমাদেরও এই সময়ে মুক্তির চিন্তা হয়ে যেত! করোনা থেকে এক এক এলাকা বাঁচাতে হলে, টেষ্ট করে আক্রান্তদের আলাদা এবং নুতন আক্রান্ত না হতে দিলেই এর প্রকোপ কমে যেত! আক্রান্তদের জন্য আইসোলেশনে এবং সুষ্ট ব্যবস্থা হলে করোনা কমে যেতে বাধ্য হত! পাশাপাশি বিদেশি সাহায্য অভিজ্ঞতা ইত্যাদি কাজে লাগানো যেত! আমরা সময় পেয়েছিলাম, ভুল শাসন চিন্তায় আমাদের মৃত্যহার বেশি হয়ে গেল বা যাচ্ছে! এত দিন পরেও টেষ্ট বিষয়টা সবার হাতের কাছেও এল না! যথা সময়ে গনস্বাস্থ্য কেন্দ্রের টেষ্ট কিট কাজে লাগালে সরকার ভাল করত, টাকা বাঁচত, প্রশংসা পেত! সেটা হল না, প্রায় তিনমাস পরে এসে সরকার তাদের লোক দিয়ে বলল, এই টেষ্ট কিট উপযুক্ত নয় (প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস শনাক্তে গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত কিট কার্যকর নয় বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে তিনি গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে কিটের কার্যকারিতার বিষয়ে উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় গণস্বাস্থ্যের কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষায় গঠিত পারফরম্যান্স কমিটি। কমিটিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক শাহিনা তাবাসসুম। ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর গত ৩০ এপ্রিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে বিএসএমএমইউতে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার অনুমতি দেয়। গত ২ মে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে। পরে বিএসএমএমইউতে কিট জমা দেয় গণস্বাস্থ্য। )! খুব দুঃখের কথা, আমাদের আরো হারাবার সময় এসেছে, আরো দুঃখ আছে! 

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের টেষ্ট কিট

সার্বিক অবস্থা দেখে মনে হয়, আমাদের প্রতিটা ঘরে ঘরে করোনা আক্রান্ত এবং মৃত লোক হবেই! উপায় নেই বা সেই চেষ্টাও নেই! নিজেরা ঘরে বসে থেকে থেকে নিজকে হয়ত কিছু দিন বাচানো যেতে পারবে কিন্তু সেটা কত দিন।  মানুষ কি অনিদিষ্ট কাল ঘরে বসে থাকতে পারবে বা এটা সম্ভব! এই সব বলা চলে সব সরকারের সিধান্তের উপরেই যায়! কারন সরকারকেই আগে চাইতে হবে, নিদিষ্ট কর্মপন্থা নিয়ে মানুষের সামনে আসতে হবে! আমাদের অপেক্ষার পালা এখনো! 

অনেক জিজ্ঞেস করেন, কেমন আছি? হ্যাঁ, আল্লাহর দরবারে শোকর জানাই যে, তিনি এখনো ভাল রেখেছেন। এই ভাল থাকার কারন হচ্ছে আমি তেমন ঘর থেকে বের হই না বা বের হবার চেষ্টাও করি না! গত চার মাস বলা চলে পুরোপুরি ঘরেই কাটিয়েছি বা কাটাচ্ছি (মাঝে মাত্র কয়েকবার ব্যাংক ও বাজারে গিয়েছি)। আল্লাহর কাছে শোকরিয়া যে, তিনি আমাকে ঘরে থাকার সামর্থ দিয়েছেন এবং আরো বেশ কিছু দিন ঘরে থাকতে চাই বা পারবো। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না হলে এভাবে থাকতে পারতাম না, কিছু সঞ্চয় ছিলো বলে এই সাহস পেয়েছি, এবং কোন বাঁধা না পেরিয়ে এখনো ভাল আছি। সার্বিকভাবে শরীরের যে অবস্থা, তাতে করোনা ভাইরাসের আক্রমন হলে খুব একটা ভাল করতে পারবো তা কিছুতেই মনে হয় না! বয়স এবং শরীরের অঙ্গপতঙ্গ সব কিছু খুব একটা ভাল তা বলা চলে না, করোনা ভাইরাসে আক্রমন হলে শরীরের যে অঙ্গ গুলো কুপোকাত হয়ে পড়ে তার সব গুলোই আমার শরীরে দূর্বল মানে আমি নিজেই বুঝতে পারি! কাজেই বেঁচে থাকতে হলে আমার ঘরের বাইরে যাবার কোন অফশন নেই বা যাওয়া যাবে না! কারন করোনা ধরলে আর বেঁচে থাকার কোন উপায় দেখি না! এর পরেও নানা বিষয় আছে, আমাদের মত লোকদের টেষ্ট, চিকিৎসা বা হাসপাতাল, কোন কিছুই নেই!

আমি এর আগেও আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি কয়েকবার। আবারো বলি, যদি কখনো আপনাদের মনে কোন কষ্ট দিয়ে থাকি তবে ক্ষমা করে দিবেন এবং আমার মৃত্যু সংবাদে ‘ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্নালিল্লাহে রায়েযুন’ পড়বেন, সাথে আপনাদের দোয়া চাই সব সময়ে। যদিও আমি এই সময়ে মরতে চাই না, আমি মনে করি আমার এখনো অনেক কাজ বাকী, অনেক কিছু লেখা বাকী, অনেক জায়গা ভিজিট বাকী, সন্তানদের বড় করা বাকী ইত্যাদি ইত্যাদি! তবে অনলাইনের দীর্ঘ সময়ে বা ব্লগের এই দীর্ঘ জীবনে কত কি লিখেছি, কত কি চিন্তা করেছি, কত মানুষের সাথে মতের অমিল হয়েছে, বিতর্ক হয়েছে, আরো কত কি! সব ভুলে যাবার অনুরোধ করি।  তবে বলে যাই, আমি কখনো কাউকে ব্যক্তি হিসাবে আক্রমন করি নাই, মতের চিন্তায় বা ভুল চিন্তায় তাকে শুদ্ধ হিসাবে দেখতে চেয়ে বিতর্কে নেমেছি।

সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা! মুক্ত চিন্তা করার এখনি সময়!  

১ জনের ভালো লেগেছে