বাবা

সতের বছর আগের কথা। এক লোককে বেশ অপছন্দ করতাম। বিরক্ত লাগত। যতটা সম্ভব এড়াতে চাইতাম। অপরিচ্ছন্ন (মানে, আমার থেকেও), কাণ্ডজ্ঞান কম (মানে, গা ঘেঁষে দাঁড়ায়, কথায় থুথু ছিটে, শুনতে না চাইলেও বকবক করে), সামাজিক মানদণ্ডে আকর্ষণীয় না (মানে, ক্ষমতা-অবস্থানে দুর্বল, সুবিধা পাওয়ার আশা নেই)।

শুধু এড়ানোর চেষ্টা না, আড়ালে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করতাম, তাচ্ছিল্য করতাম। তিনি এসব কিছু জানতেন না। সরল এবং আন্তরিক ছিলেন। যেচে কাছে আসতেন, অনবরত কথা বলতেন। তিনি যাতে আহত বা অসম্মানিত না হন, তাই বিরক্তি গোপন করে তার কথা শুনতে হত।

একদিন তেমনি চলছিল। এরমধ্যে তিনি নিজের অফিসের ডায়েরি খুলে আমার অনিচ্ছুক দৃষ্টির সামনে পাতা ওল্টাতে লাগলেন। একটা পৃষ্ঠা খুঁজে পেয়ে উঁচু করে আমার চোখের আরও কাছে নিয়ে আসলেন।

আমি অবাক হয়ে দেখি, এক শিশুর নরম হাতের কিছু এলোমেলো রঙিন রেখা! আরও দেখি, পিতৃস্নেহে বিমুগ্ধ এক বাবার উচ্ছ্বাস ভরা দৃষ্টি! "দাদা, এই ছবিগুলো আমার মেয়ে এঁকেছে! এত সুন্দর ছবি আঁকে আমার দুষ্টু মেয়েটা"--বাৎসল্যভেজা বাবার কণ্ঠ!

সেই মুহূর্তে মানুষটির পরিচয় আমার কাছে বদলে যায়। মাত্র সাড়ে দশ বছর বয়সে বাবা হারানো এই আমার কাছে তিনি স্নেহময় এক পিতা হিসেবে আপন হয়ে ওঠেন! 

এটা আমার পিতা হওয়ার ১১ বছর আগের ঘটনা। এখন আমি নিজে আমার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে মোহন দৃশ্য দেখি!

১ জনের ভালো লেগেছে

দারুণ! এই সৃষ্টিতে কত সামান্য অবদান, তারপরও কত স্নেহ, কত আবেগ, কত মায়া!