বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বনাম অর্থনৈতিক স্বাধীনতার রেখাপাত

চিন্তাভাবনা, দর্শন ইত্যাদির বয়সভেদে সুনির্দিষ্টতায় বৈসাদৃশ্য  দেখায়।
মানসিক বিকাশই বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ কিনা এটা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। অনেক বলেন বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশই মানসিক বিকাশ, 
আমার মনে হয়, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের প্রাথমিক স্তর হচ্ছে মানসিক বিকাশ। অনেকটা পরীক্ষায় টেনেটুনে পাশ করার মত।

ঘুম ভাঙলে বিছানায় এপাশ-ওপাশ করে সারাদিনের কর্মপরিকল্পনা গুছানোর বাজে স্বভাব এখনো রয়েছে, যদিও এখন কাজ নেই তেমন। 
তাই এখনো ঘন্টাখানেক এপাশ-ওপাশ করি, তখন মাথায় বিচিত্র ধরণের খেয়াল আসে।

কেঁচো, জোঁক শ্রেণির প্রাণিরাও যেখানে সেখানে মুখ দেয় না, তারা তাদের খাবার আলাদা করতে পারে, অন্তত খাবারের ভালমন্দ বুঝার মত মস্তিষ্কের গঠন ও বিকাশ রয়েছে।
তবে তা ঐ পর্যন্তই। 

তাই মানুষ নিজের একদম ব্যসিক সার্ভাইভালের জন্যে খাবার নিশ্চিত করার জন্যে নানান ক্ষেত্রে নিজের লাভ খুঁজে নিতে জানবে এটায় অবাক বা হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
চলতে চলতে প্রায়শই  এখানে তারা অযৌক্তিকভাবে যুক্তি দিয়ে নিজের লভ্যাংশ নিশ্চিত করতে চায়। দিন প্রতিটা মানুষের যুক্তি মত সে বিজয়ী। 

এই পর্যায়ে যদি তাদের মানসিক বিকাশকেই বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ধরে ফেলা হয়, তা হবে ঘোরতর অন্যায়।

কিছু সহজাত প্রবৃত্তিকে কি "জ্ঞান" বলা হবে কিনা সেটা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। যেমন বাচ্চা কে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে সে তার মাথাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। এটা একটা প্রবৃত্তি, কেউ তাকে শিখায় নি। 

এছাড়া বিন্যাস আর বিকাশেও পার্থক্য রয়েছে বিস্তর।

সকালে ঘুম ভাঙার পর ( সকাল বলতে, 'যখন ঘুম ভাঙে তখন সকাল' হিসেবে ধরছি আপাতত), ভাবছি যারা লিখালিখি করে তাদের লিখালিখি দিয়ে আয় হচ্ছে বা তাদের আর্থিক মুক্তি মোটামুটি নিশ্চিত। 

আর্থিক মুক্তির নিশ্চয়তা ছাড়া লিখালিখি চালিয়ে যাওয়া কঠিন। তখন হয়ত সত্ত্বা বিকিয়ে দেয়া লাগবে না হয় ছেড়ে দেয়া লাগবে। তাই আমাদের মত কম মানসিক শক্তির মানুষ, যাদের আর্থিক মুক্তির নিশ্চয়তা প্রাধান্য পায়, তাদের বয়সভেদে কাজ পরিবর্তন লাভ করে। এক সময়ে জীবিকা নিয়েই ভাবতে হয় সব চেয়ে বেশি। 
অবশ্য অনেকে সব ছেড়ে লিখালিখিতে থাকে। তাদের মধ্যে কেউ ব্যক্তি দর্শন আগলে রেখে কষ্টেসৃষ্টে জীবন পাড় করে, কেউ বা প্রায় শেষ জীবনে আর সইতে না পেরে দর্শন বিকিয়ে  আর্থিক মুক্তির চেষ্টা করে। 
এ ব্যাপার গুলোয় হার জিত ঠাউর করা কঠিন।

তবে একটা সামষ্টিক পরিবর্তন সামষ্টিক ভাবে শুরু হয়না,
বরং সামষ্টিক পরিবর্তন ব্যষ্টিকভাবে শুরু হয়ে সেটা সামষ্টিক রূপ ধারণ করে।

অথচ আমরা সামষ্টিক পরিবর্তনের জন্যে সামষ্টিক পদক্ষেপের অপেক্ষা করি।

১ জনের ভালো লেগেছে

পরিবর্তন বা সমাজে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব রাখার বিষয়ে ব্যক্তি বা সমষ্টির ভূমিকা বাইনারি অপজিশন না সম্ভবত।